জীবনের গল্প
“মানুষের ভাগ্য বলে সত্যিই একটা কথা আছে। আমার ভাগ্য ভালো না খারাপ, আজও বুঝে উঠতে পারিনি।
ছোট একটা চাকরি ছিল, অসুস্থ বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব ছিল আমার কাঁধে। তারপর বিয়ে, সংসার, সন্তান—সবকিছুই এলো জীবনে। কিন্তু বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, তার ছোট ছোট ইচ্ছাগুলো পূরণ করা কিংবা হাতে কিছু টাকা তুলে দেওয়ার সুযোগ খুব কমই পেয়েছি। মাসের শেষে যা আয় করতাম, তার বেশিরভাগই চলে যেত বাবার চিকিৎসায়।
আমার কোনো ভাই-বোন ছিল না, যে পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্বের কিছুটা ভাগ নেবে, কিংবা অন্তত আমার কষ্টটা বুঝবে। তাই সব দায়িত্ব একাই বহন করেছি, কোনো অভিযোগ ছাড়াই।
এরই মধ্যে সন্তান হলো, তারপর একদিন বাবা চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বাবাকে হারানোর কষ্ট বুকে নিয়েই চাকরি ছেড়ে ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে এলাম। একটি সুপার শপ শুরু করলাম, শুধু পরিবারের পাশে থাকার জন্য, তাদের সময় দেওয়ার জন্য।
কিন্তু যাদের জন্য এত কিছু করলাম, তারা কখনো আমার ভেতরের মানুষটাকে বুঝতে চাইল না। সবাই শুধু নিজের চাওয়া আর না-পাওয়ার হিসাব করলো। আমার মন কী চায়, আমি কী অনুভব করি, আমি কী স্বপ্ন দেখি—সেসব জানার প্রয়োজন কেউ অনুভব করলো না।
ঈদ আসে, উৎসব আসে, অনুষ্ঠান আসে—কিন্তু আমি কোথাও যেতে পারি না। আজ ইচ্ছে করলেও পাশে কাউকে পাই না। যখন সময় ছিল না, তখন সবাই ঘুরতে যেতে চাইতো; আর যখন সময় হলো, তখন পাশে থাকার মানুষগুলো আর থাকলো না। না-পারার কারণগুলো কেউ বুঝতে চায়নি, বরং অভিযোগের তীরই ছুড়ে দিয়েছে আমার দিকে।
জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে আমি সবার কথা ভেবেছি, সবার দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু খুব কম মানুষই একবার ভেবে দেখেছে, আমিও একজন মানুষ; আমারও কষ্ট হয়, আমারও কিছু না বলা অনুভূতি আছে।
আজ আবার আমি একা।
হয়তো এই পৃথিবীতে শেষ পর্যন্ত মানুষকে একাই পথ চলতে হয়। মনের গভীর কষ্ট কাউকে পুরোপুরি বোঝানো যায় না। তাই সবাই ভালো থাকুক। আমাকে শুধু আমার মতো করে বাঁচতে দিন, আমার মতো করে থাকতে দিন। কখনো যদি আমার নীরবতা দেখেন, জেনে রাখবেন—সেটা অভিমান নয়, অনেক না বলা গল্পের ভার।”** 🌿
